যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ভিডিও গেম খেলার যন্ত্র বা কনসোল কেড়ে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের বাবাকেই গুলি করে হত্যা করেছে ১১ বছর বয়সী এক শিশু।
পুলিশি তদন্ত ও আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, নিন্টেন্ডো সুইচ (Nintendo Switch) নামের গেমিং ডিভাইস বাবা নিয়ে নেওয়ায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এ পথ বেছে নেয় ছেলেটি।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পেনসিলভানিয়ার ডানক্যানন বোরো এলাকার ওই পরিবারের নিজ বাড়িতে। অভিযুক্ত শিশুটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই নরহত্যার (Criminal Homicide) অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি এই মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আদালতের নথি ও পুলিশি জবানবন্দি অনুযায়ী শিশুটি স্বীকার করেছে, সে তার বাবার ড্রয়ারে খোঁজাখুঁজি করে বন্দুক রাখার সিন্দুক বা সেফের চাবি খুঁজে পায়। মূলত সে তার নিন্টেন্ডো সুইচটি খুঁজছিল, কিন্তু সেফ খোলার পর সেখানে সে বন্দুকটি পায়। এরপর সে বন্দুকটি বের করে তাতে গুলি লোড করে এবং বাবার শোবার ঘরে যায়। বাবা যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে সে ট্রিগার টেনে গুলি চালায়।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোররাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তারা একটি ফোন পায় যেখানে বলা হয় এক ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৪২ বছর বয়সী ডগলাস ডিটজকে বিছানায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তার মাথায় গুলির স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।
এই ঘটনার সবচেয়ে ট্র্যাজিক বা বেদনাদায়ক দিক হলো, ঘটনার দিনটি ছিল ওই শিশুটির জন্মদিন। বাবাকে গুলি করার পরপরই ছেলেটি দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকে যায় এবং চিৎকার করে বলতে থাকে যে বাবা মারা গেছেন। পরবর্তীতে সে তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দেয় এই বলে যে, আমি বাবাকে মেরে ফেলেছি।
পুলিশ তদন্ত শেষে ওই ১১ বছর বয়সী ছেলেকেই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এএমটি