আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে চলন্ত গাড়িতে ঝগড়া করে স্বামীর কান কামড়ে ছিঁড়লেন স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চলন্ত গাড়িতে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বামীর কান কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগে অ্যামি আর্লেন বেকার (৪৩) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভয়ংকর এই ঘটনার সময় ওই গাড়িতে তাদের ৭ ও ১ বছর বয়সী দুই শিশুসন্তানও উপস্থিত ছিল। গত ১৫ আগস্ট ডিয়ারফিল্ড বিচের হিলসবরো বুলেভার্ডের কাছে ইন্টারস্টেট-৯৫ (আই-৯৫) মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল (এফএইচপি) জানিয়েছে, ফোর্ট লডারডেল পোর্ট মেরিনা এলাকায় একটি নৌকার পার্টি শেষে ওই দম্পতি নিজেদের বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাদের সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। স্বামীর দাবি, ঝগড়ার সময় অ্যামি তাকে গালিগালাজ করেন এবং গাড়ি চালানোর অবস্থাতেই তার গালে চড় মারেন। এর প্রায় দুই মিনিট পর অ্যামি দুই হাত দিয়ে স্বামীর মাথা চেপে ধরেন এবং ডান কানে সজোরে কামড় দিয়ে একটি অংশ ছিঁড়ে নেন। প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ওয়েস্ট বোকা মেডিকেল সেন্টারে যান। স্বামীর অভিযোগ, কান কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়ার পর অ্যামি হাসছিলেন এবং আঘাতের তীব্রতাকে মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না।


অন্যদিকে, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অ্যামি ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, ওই সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। জীবনবিমা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাঁর স্বামী তাকে 'চুপ করতে' বলেন এবং গালে চড় মারেন। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং স্বামীর মাথা চেপে ধরে কানে কামড় বসান। তবে তার স্বামী তাকে আঘাত করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। পরে অ্যামি নিজেই কানের ছিন্ন অংশটি উদ্ধার করে হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে হস্তান্তর করেন।


ঘটনার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহত স্বামীকে মাথায় ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়। তার ডান কান থেকে রক্ত গড়িয়ে গলা ও পোশাকে পড়ছিল। কানের ছিন্ন অংশটি জোড়া লাগানোর জন্য তিনি তখন অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে সেই অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি। ঘটনার দিন তাদের পেছনে অন্য একটি গাড়িতে থাকা বন্ধুরা শিশুদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যান।


উভয় পক্ষের বক্তব্য, শারীরিক অবস্থা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ অ্যামি বেকারকেই মূল হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাতের একটি এবং সন্তানদের সামনে এ ধরনের সহিংস আচরণের কারণে শিশু অবহেলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রোওয়ার্ড কাউন্টির প্রধান কারাগারে পাঠানোর পর গত ১৮ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে এই মামলার আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

সূত্র: ইয়াহু নিউজ


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন