এক ভয়ংকর দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির হ্যানকক মিডল স্কুলের প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) চলন্ত স্কুল বাসের চালক হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ১২ বছর বয়সী কিশোরের উপস্থিত বুদ্ধিতে রক্ষা পায় বাসটি।
স্কুল থেকে ফেরার পথে ৪৬ বছর বয়সী বাস চালক লেয়া টেলর হঠাৎ তীব্র হাঁপানির টানে আক্রান্ত হন। বাসের নিয়ন্ত্রণ হারানো অবস্থায় তিনি নিজের ওষুধ খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। চার লেনের ব্যস্ত মহাসড়কে বাসটি তখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছিল।
ঠিক সেই মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে আসে ষষ্ঠ শ্রেণির ১২ বছর বয়সী ছাত্র জ্যাকসন ক্যাসনেভ। সে চালকের ঠিক পেছনের আসনেই বসা ছিল। বাসটিকে আঁকাবাঁকা চলতে দেখে সে মুহূর্তের মধ্যে স্টিয়ারিং হুইলটি শক্ত করে ধরে এবং সহপাঠীদের শান্ত থাকতে বলে।
জ্যাকসন জানায়, আবেগতাড়িত হওয়ার মতো সময় আমার ছিল না। আমি শুধু চেয়েছিলাম যেন কেউ আহত না হয়।
একই সময় আরেক ১২ বছর বয়সী ছাত্র ড্যারিয়াস ক্লার্ক দ্রুত বাসের ব্রেক চেপে ধরে। দুই বন্ধুর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাসটি মহাসড়কের ডিভাইডারের ওপর নিরাপদভাবে দাঁড়িয়ে যায় এবং তারা ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়।
বাস থামার পর শুরু হয় বাকিদের উদ্ধার তৎপরতা, কেইলি ক্লার্ক দ্রুত ৯১১-এ ফোন করে জরুরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করে। আরেক শিক্ষার্থী ডেসটিনি কর্নিলিয়াস অচেতন চালকের হাতে থাকা নেবুলাইজারটি খুঁজে পায় এবং তাকে চিকিৎসা দিতে শুরু করে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে চালক লেয়া টেলর বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, তারা না থাকলে আজ বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
শুক্রবার স্কুলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই খুদে বীরদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। স্কুলের প্রিন্সিপাল ড. মেলিসা সসিয়ার বলেন, "তাদের এই সাহস অতুলনীয়। তারা কেউ অন্যের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করেনি, বরং নিজেরাই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। এটি তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার বড় পরিচয়।"
পুরস্কার হিসেবে আগামী সপ্তাহে এই সাহসী শিক্ষার্থীদের তাদের পছন্দের রেস্তোরাঁয় বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
ডিবিসি/এসএফএল