হাজার হাজার মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে নির্বাসিত চীনা ধনকুবের গুও ওয়েনগুই-কে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি জুরি বোর্ড সর্বসম্মতভাবে গুও-কে সিকিউরিটিজ অপরাধ, ওয়্যার ফ্রড (ডিজিটাল প্রতারণা) এবং মানি লন্ডারিংসহ ১২টি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে সেন্ট্রাল পার্কের পাশে তার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে এফবিআই তাকে গ্রেপ্তার করে। গুও ওয়েনগুই হো ওয়ান কওক এবং মাইলস গুও নামেও পরিচিত।
গত সোমবার নিউ ইয়র্কে সাজা ঘোষণার শুনানিতে বিচারক অ্যানালিসা টরেস বলেন, গুও মূলত নিজের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে মত্ত ছিলেন এবং একটি গণতান্ত্রিক চীনের স্বপ্ন দেখা মানুষদের তিনি শিকার বানিয়েছেন।
বিচারক টরেস গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন (৮৮ কোটি ৯০ লাখ) ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। রায় প্রদানের সময় বিচারক গুওর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তিনি দাতব্য উদ্দেশ্যকে অপব্যবহার করেছেন, সমালোচকদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে এই চীনা ব্যবসায়ী নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তার দাবি, এই অর্থ তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিলেন।
চীনে আবাসন ব্যবসায়ী হিসেবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া গুও ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) দ্বারা তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার। পরবর্তীতে তিনি সিসিপি-র একজন কট্টর সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং নিজেকে গণতন্ত্রের একনিষ্ঠ রক্ষক হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে গুও ওয়েনগুই আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডানপন্থী ব্যক্তিত্ব স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে গভীর সখ্যতা গড়ে তোলেন। ২০২০ সালের আগস্টে গুওর বিলাসবহুল ইয়ট (আমোদতরী) থেকেই ব্যাননকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্তে ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রাচীর নির্মাণের নামে তহবিল তছরুপের অভিযোগে ব্যানন গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যানন দাতাদের সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করলেও কারাদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন।
মার্কিন তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, গুও যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর ভিন্নমতাবলম্বী হিসেবে নিজের অনলাইন জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেন। তিনি মানুষকে তার বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে প্ররোচিত করেন এবং বিনিয়োগকারীদের বিশাল মুনাফা ও বিলাসবহুল সেবার প্রলোভন দেখান। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, সেই অর্থ দিয়ে তিনি নিজের অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও বিলাসী জীবনযাত্রার খরচ মেটাতেন।
সোমবার সাজা ঘোষণার সময় আদালতে গুওর শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সরকারি কৌঁসুলি রায়ান ফিংকেল কড়া ভাষায় বলেন, গুও কোনো গণতান্ত্রিক কর্মী নন; তিনি একজন প্রতারক, জোচ্চোর এবং চোর।
উল্লেখ্য, এই প্রতারণা চক্রে গুওর সহযোগী এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টি-বিরোধী একটি লবিং গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইভেট ওয়াং-কেও গত বছর ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এসএফএল