বিবিধ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাক্তন বুয়েট শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু: সঠিক তদন্তের দাবি পরিবারের

ডেস্ক রিপোর্ট

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়া (NVIDIA)-এর সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান আল-হুসাইনির রহস্যজনক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তার পরিবার ও বন্ধুরা। মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রকৃত কারণ অজানা থাকায়, তারা দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় ড. ইরফানকে। জরুরি সেবা (৯১১) কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। টানা নয় দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৩০ জুলাই তিনি মারা যান।

 

ড. ইরফান বুয়েটের পুরকৗশল বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. তাহমিদ মালিক আল-হুসাইনির সন্তান। বুয়েট থেকে স্নাতক শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া টেক ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে তিনি এনভিডিয়াতে সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি মূলত বাসা থেকেই কাজ করতেন।

 

পরিবার ও বন্ধুদের দাবি, মৃত্যুর দিন সকাল ১০:০২ মিনিটেও তিনি তার সহকর্মীদের সাথে অনলাইনে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু এর মাত্র ২০ মিনিট পর, সকাল ১০:২২ মিনিটে তার স্ত্রী ড. ফাবিয়া ফারলিন অর্থী ৯১১ নম্বরে কল করে আত্মহত্যার রিপোর্ট করেন। সকাল ১০:০২ থেকে ১০:২২ পর্যন্ত এই ২০ মিনিটের মধ্যে কী ঘটেছিল, তা এখনও অজানা। জরুরি সেবা কর্মীদের মতে, ইরফানের মস্তিষ্কে অন্তত ৩০-৬০ মিনিট অক্সিজেন সরবরাহ ছিল না, যার কারণে তার 'অপরিবর্তনীয় ব্রেন ড্যামেজ' (irreversible brain damage) হয়।

 

পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর ইরফানের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত (Autopsy) করা হয়নি, শুধুমাত্র বাহ্যিক পরীক্ষা করা হয়েছে। বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের জন্য স্ত্রীর সম্মতি প্রয়োজন হলেও, ড. ফাবিয়া ফারলিন অর্থী এখনও তাতে সম্মতি দেননি বলে পরিবারের দাবি।

 

ইরফানের মৃতদেহ এখনও হিমাগারে রাখা আছে। শারীরিক আলামত নষ্ট হওয়ার আগেই, ব্যক্তিগত অর্থায়নে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। একইসঙ্গে, তারা বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নিকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

পরিবার ও বন্ধুদের মূল দাবিগুলো হলো:

১. ড. ইরফান আল-হুসাইনির পিতা-মাতার অনুরোধ অনুযায়ী, ব্যক্তিগত অর্থায়নে অনতিবিলম্বে তার মৃতদেহের পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত করা।

২. ড. ইরফানের মৃতদেহ দ্রুত তার পিতা-মাতার কাছে হস্তান্তর করা।

৩. ডিজিটাল ফরেনসিকসহ একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা। যদি প্রমাণিত হয় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তবে কী পরিস্থিতিতে তিনি এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন তা খতিয়ে দেখা।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন