ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা আসরে মাঠের রণকৌশল, ইনজুরি আর প্রতিপক্ষকে বধ করার ছক নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা ফুটবলারদের। কিন্তু এবারের দৃশ্যপট ভিন্ন। জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের মতো পরাশক্তিদের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে এখন মাঠের লড়াইকে ছাপিয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিষাক্ত সাপের আতঙ্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সেলেমে জার্মানির বেস ক্যাম্পে সম্প্রতি ফুটবলাররা সরাসরি একটি বিষাক্ত 'সাউদার্ন কপারহেড' সাপের মুখোমুখি হলে এই ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি সান ডিয়েগোর ক্যাম্পে থাকা সুইজারল্যান্ড দলকেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই তাদের সীমানার একটি অংশকে 'সাপপ্রবণ এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করতে হয়েছে।
ক্যাম্পের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মানির অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ। তিনি জানান, জার্মানিতে তাদের কেবল দুটি বিষাক্ত সাপের প্রজাতি রয়েছে, যার কারণে এমন বন্যপ্রাণীর ভয় সেখানে নেই। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি এতটাই ভিন্ন যে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি বাদ দিয়ে খেলোয়াড়দের এখন প্রতি কদম ফেলার আগে মাটিতে নজর রাখতে হচ্ছে।
সাপের কামড়ে মৃত্যু না হলেও এর ভয়াবহতা যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ার বা টুর্নামেন্ট শেষ করে দিতে পারে, তা উল্লেখ করে কিমিচ বলেন, বিষয়টি জানার পর এটি আর রসিকতার পর্যায়ে নেই।
একই রাজ্যে অবস্থান করা নরওয়ে ক্যাম্পেও এই খবর চরম অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অঞ্চলে কপারহেড সাপ অত্যন্ত সাধারণ বা সচরাচর দৃশ্যমান বলে নিশ্চিত করার পর, নরওয়ে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান থর্স্টভেডট এই পরিস্থিতিতে নিজের চরম অসন্তুষ্টি ও ক্ষোভের কথা জানান। ফলে বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে নামার আগেই মাঠের বাইরের এই অদৃশ্য প্রতিপক্ষ ইউরোপের তারকা ফুটবলারদের মানসিক স্বস্তিতে বড় এক ধাক্কা দিয়েছে। সূত্রঃ বিবিসি
ডিবিসি/আরএসএল