যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স শহরে ইয়াসমিন (৪০) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত ইয়াসমিন লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের গোরারবাগ গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের বোন। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকালে ফোর্ট মায়ার্স শহরের একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সামনে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ১৪ মিনিটে হামলার শিকার হন ইয়াসমিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক প্রথমে একটি কালো রঙের গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করছে। ওই সময় ইয়াসমিন দোকান থেকে বের হওয়া মাত্রই হামলাকারী অতর্কিতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকের প্রথম আঘাতেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারী অত্যন্ত নির্মমভাবে তার মাথায় বারবার আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
খবর পেয়ে ফোর্ট মায়ার্স ফায়ার ডিপার্টমেন্ট ও লি কাউন্টি ইএমএস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইয়াসমিনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীকে ধরতে লি কাউন্টি শেরিফ অফিস ব্যাপক অভিযান শুরু করে। অভিযানে পুলিশের কে-৯ ইউনিট ও এভিয়েশন ইউনিট (হেলিকপ্টার) অংশ নেয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার তিনটি স্কুল সাময়িকভাবে লকডাউন করে রাখা হয়। বিকেলের দিকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘাতককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ঘাতকের পরিচয় বা হামলার কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
নিহতের ভাই কুশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা শাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ইয়াসমিনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফ্লোরিডাসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
ডিবিসি/এসএফএল