যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে স্কাইডাইভিং করতে গিয়ে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পাইলটসহ বিমানের ১২ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিসৌরির বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দরের কাছে একটি মাঠে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় স্কাইডাইভিংয়ের আনন্দ উপভোগ করতে বিমানটিতে চড়েছিলেন ১১ জন যাত্রী। কিন্তু উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অত্যন্ত মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন আরোহীর পরিবারের সদস্যরা এই লাইভ দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন।
বেটস কাউন্টির শেরিফ চ্যাড অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই মাঠে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বিমানের সব আরোহী মারা যান। উদ্ধারকারীরা পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছেন, তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে কেউ লাফিয়ে আত্মরক্ষা করতে পেরেছেন এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি।
বেটস কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক ডেনিস জ্যাকবস জানান, বিমানটি ছিল একটি সিঙ্গেল-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ মডেলের। ২০১০ সালে তৈরি এই বিমানটি স্কাইডাইভিংয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয়।
জ্যাকবস বলেন, উড্ডয়নের পর বিমানটি বাম দিকে মোড় নেওয়ার পরপরই সম্ভবত এর ইঞ্জিন শক্তি হারাতে শুরু করে। পাইলট হয়তো পাশের মহাসড়কে বিমানটি জরুরি অবতরণ করানোর চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু গতি কমে যাওয়ায় বিমানটি নাক থুবড়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
ডিজিটাল ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে ওই দিনই বিমানটি আরও দুটি সংক্ষিপ্ত ফ্লাইট সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল। এছাড়া পূর্ববর্তী শুক্র ও শনিবারেও এটি বেশ কয়েকটি সফল ফ্লাইট পরিচালনা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই দুর্ঘটনার পর স্কাইডাইভিং খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলেছেন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা। সাবেক ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেটর জেফ গুজেটি জানান, কড়া বাণিজ্যিক নিয়মের বাইরে সাধারণ ব্যক্তিগত বিমানের নিয়মে চলায় অনেক স্কাইডাইভিং সংস্থায় রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি ও দুর্বল নিরাপত্তা সংস্কৃতির ইতিহাস রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালেও হাওয়াইতে একই ধরনের এক স্কাইডাইভিং বিমান দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়েছিলেন।
বর্তমানে তদন্তের স্বার্থে বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর এবং এর পাশ্ববর্তী মহাসড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং তাদের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সূত্র: এপি
ডিবিসি/এসএফএল