ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো আক্রমণ চালায়, তবে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে খামেনি বলেন, ‘আমেরিকানদের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার সেটি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন যে ইরানের সাথে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং তিনি আশা করেন এর ফলাফল ‘গ্রহণযোগ্য’ হবে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানিও নিশ্চিত করেছেন যে আলোচনার একটি কাঠামো এগিয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ইস্যুতে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজটি আরব সাগরে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে খামেনি বলেন, ইরানি জাতি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ দেখে ভীত হবে না।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে হরমুজ প্রণালীতে ইরান দুই দিনের লাইভ-ফায়ার নৌ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুট দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এর আগে ইরান আক্রান্ত হলে এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এই এলাকায় ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ সম্পর্কে ইরানকে সতর্ক করেছে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে লক্ষ্যভেদ অনুশীলন করবে, তা ঠিক করে দিতে চাইছে।
এদিকে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইরানে দুটি পৃথক বিস্ফোরণের ঘটনা উত্তেজনা বাড়িয়েছে। বন্দর আব্বাসে একটি ভবনে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একে গ্যাস লিক বলে দাবি করেছে এবং রিভোলিউশনারি গার্ডের এক কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করার গুজব অস্বীকার করেছে তাসনিম। অন্যদিকে, আহওয়াজে আরেকটি বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত হন, যাকেও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গ্যাস লিক বলে উল্লেখ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ট্রাম্প বলেছিলেন, সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে দুটি কাজ করতে হবে: পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতায় ৬,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং আরও ১৭,০০০ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তাধীন। নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস আশঙ্কা করছে যে মৃতের সংখ্যা ২৫,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে রবিবার খামেনি বিক্ষোভকারীদের পুলিশ, আইআরজিসি, ব্যাংক ও মসজিদে হামলার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং দাবি করেন, ‘অভ্যুত্থান দমন করা হয়েছে।’
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এনএসএফ