যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনার প্রচেষ্টা এবং সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার জন্য ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার অভিযোগ করেছেন, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনার টেবিলে বসার মতো একটি ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ঠিক তখনই তেহরানে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল পরিস্থিতিকে চরম জটিল করে তুলেছে।
পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার পাকিস্তানের সিনেটে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইসহাক দার এই বিস্ফোরক দাবি করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তিনি বলেন, সোমবার রাতের আগ পর্যন্ত আমরা এই আলোচনা নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলাম। পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করুক তাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই রাজি হয়েছিল এবং তারা ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতেও সম্মত হয়েছিল।
আলোচনার গভীরতা তুলে ধরে ইসহাক দার জানান, পাকিস্তান একটি বিশেষ কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছিল। এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা শর্ত ইরানের কাছে এবং ইরান ৫ দফা শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। দুই পক্ষই এই শর্তগুলো নিয়ে ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পর তেহরান তাদের চূড়ান্ত জবাব পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। ঠিক এই সন্ধিক্ষণেই তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এই হামলার ফলে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অর্জিত অগ্রগতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরানে এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ইসরায়েলের নীতিকে দায়ী করে আলোচনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল