যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা যাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম না দেয়, তা নিশ্চিত করতে তুরস্ক কঠোর পরিশ্রম করছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। মিসর সফর শেষে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এরদোয়ান বলেন, ‘তুরস্ক উত্তেজনা প্রশমনে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে দুই দেশের মধ্যে নিম্ন-পর্যায়ের পরমাণু আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরদোয়ান উল্লেখ করেন, এই আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা শুধুমাত্র তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েই কথা বলবে। এই মতপার্থক্যের জেরে দুই দেশের মধ্যে বিমান হামলার পারস্পরিক হুমকির সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সতর্ক করে বলেছেন, তার "খুবই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত"। ট্রাম্প আরও জানান, আলোচনার বিষয়ে সমঝোতা না হলে "খারাপ কিছু" ঘটতে পারে।
প্রথমে ইস্তাম্বুলে আলোচনার কথা থাকলেও, পরবর্তীতে তা ওমানের রাজধানী মাস্কাটে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আলোচনার এজেন্ডা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইরানের সাথে সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রবল। তিনি ইরানকে আগ্রাসন বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে তারা ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের অধিকারকে সমর্থন করে এবং শক্তি প্রয়োগ বা নিষেধাজ্ঞার চাপের বিরোধী।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীর সমর্থন এবং মানবাধিকার ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। ইরানি সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে তেহরানকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ৫০০ কিলোমিটারের (৩১০ মাইল) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
ইসরায়েলি হামলায় গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনে হুথিদের মতো ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সৈন্য, বিমানবাহী রণতরী এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে চাপ বৃদ্ধি করেছে।
উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে ইরান তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এনএসএফ