দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সব ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরএনএকে এই চুক্তির চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একে 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' হিসেবে উল্লেখ করে জানান, উভয় দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং এখন এর বাস্তবায়নের দিকটি পরীক্ষা করার সময়।
যেহেতু দুই নেতা ইলেকট্রনিকভাবে চুক্তিতে সই করে ফেলেছেন, তাই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে দুই দেশের আলোচক দলের জেনেভায় যাওয়ার পরিকল্পনা এখনো রয়েছে। সেখানে কোনো সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে; আপাতত সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্যালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। আল জাজিরার প্রতিনিধি মাইক হান্না জানিয়েছেন, এই সমঝোতা স্মারকের কারণে ট্রাম্প নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ চাপের মুখে পড়তে পারেন। ইরানের বিরুদ্ধে সবসময় কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের ওপর কট্টর ডানপন্থি মহলের চাপ ছিল। কিন্তু চুক্তির যেসব শর্ত এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক রিপাবলিকান নেতা।
সমালোচনার মুখে ট্রাম্প প্রশাসন দেশের জনগণ ও রাজনীতিকদের বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ও নয়। বরং প্রশাসন এই সমঝোতা স্মারকটিকে ভবিষ্যৎ আলোচনার একটি শক্ত ভিত্তি হিসেবেই তুলে ধরার চেষ্টা করছে।
ডিবিসি/পিআরএএন