ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, ইরানের সাধারণ জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের কারণে বর্তমানে সহিংস রূপ ধারণ করেছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) লেবাননের বৈরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই ইরানের বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করেছে এবং এটি একটি ধ্রুব সত্য। মূলত তাদের এই অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণেই জনগণের প্রাথমিক শান্তিপূর্ণ দাবিদাওয়ার আন্দোলন এখন সহিংস সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে আরাগচি বলেন, আমার মনে হয় এমন কোনো সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা বা আশঙ্কা খুবই কম। কারণ অতীতেও তারা ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, বিশেষ করে স্থানীয় মুদ্রা ‘ইরানি রিয়াল’ এর নজিরবিহীন দরপতন এবং অসহনীয় মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এই অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। মূলত সেই ধর্মঘট থেকেই বর্তমান বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
পরবর্তীতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গতকাল থেকে দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ শুরুর গত ১৩ দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত তেহরানকে চারবার কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর ইরান সরকার দমন-পীড়ন চালালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা 'মোসাদ' প্রকাশ্যে ইরানি জনগণের এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল।
ডিবিসি/এএমটি