যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে নির্মাণাধীন ‘গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতু’ চালু করতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র এ যাবৎকাল কানাডাকে যা যা সুবিধা দিয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ এবং দেশটিকে যথাযথ সম্মান না দেওয়া পর্যন্ত এই সেতু উদ্বোধনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
২০১৮ সালে প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার ব্যয়ে শুরু হওয়া এই সেতুটির নির্মাণকাজ এ বছরই শেষ হওয়ার কথা। উইন্ডসর-ডেট্রয়েট ব্রিজ অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, সেতুটির সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে কানাডা সরকার এবং এর মালিকানা যৌথভাবে কানাডা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকার কথা। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, অন্টারিও ও মিশিগানকে যুক্ত করা এই সেতুর অন্তত অর্ধেক মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হওয়া উচিত। তার অভিযোগ, সেতুর দুই পাশই কানাডার নিয়ন্ত্রণে এবং এর নির্মাণে মার্কিন পণ্য ব্যবহার করা হয়নি।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে দেশটিকে বিপন্ন করছেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র কেবল অবহেলার শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি কার্নির বেইজিং সফরের পর কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। এছাড়া চীন কানাডার জনপ্রিয় খেলা আইস হকি ও স্ট্যানলি কাপ বন্ধ করে দেবে বলে ট্রাম্প যে দাবি করে আসছেন, তারও পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে নানা বাণিজ্য বিরোধে জড়িয়েছেন। এর আগে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিলেও বর্তমানে মালিকানা ও ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি দাভোস ফোরামে ট্রাম্পের নীতির কারণে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/টিবিএ