যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তবে তেহরানও ওয়াশিংটনের সঙ্গে গত ১৮ জুনের সমঝোতা স্মারকের প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার এই সমঝোতা চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তিনি এই মন্তব্য করেন। মূলত ওয়াশিংটন নিজেদের শর্তগুলো মেনে চলার ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিক, সেটির ওপরই তেহরানের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ভর করছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান বলেন, এই বোঝাপড়াটি সম্পূর্ণ একটি পারস্পরিক বিষয়। মার্কিন পক্ষ যদি সমঝোতা স্মারকটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, তবে ইরানও তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।
কথিত অযৌক্তিক বাগাড়ম্বর এবং হুমকির বিষয়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তিবাদ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানবিক মর্যাদা এবং প্রয়োজনে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃঢ় ও নির্ভীক প্রতিরক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
গত ১৮ জুন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্য দিয়ে মূলত দুই দেশের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটে এবং একাধিক আঞ্চলিক রণাঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনের একটি কার্যকর কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই চুক্তির প্রধান বিধানগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইরানের তেল রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়করণ।
চুক্তিতে এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বৃহত্তর বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা এই প্রাথমিক ধারাগুলোর সফল বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে। রাষ্ট্রপতির এই বার্তার পাশাপাশি অন্যান্য ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তারাও বারবার জোর দিয়ে বলে আসছেন যে, এই সমঝোতা স্মারকটি পারস্পরিক অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি চুক্তিটি পালনে ব্যর্থ হয়, তবে চলমান এই প্রক্রিয়াটির ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ডিবিসি/এমএনকে