যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক মার্কিন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ‘জ্যাভেলিন’ কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। মাঝারি পাল্লার এবং একজন সেনাসদস্য কর্তৃক সহজে বহনযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। এর আগে গত বছরের (২০২৫) নভেম্বরে ভারতের কাছে ‘এফজিএম-১৪৭ জ্যাভেলিন’ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই চুক্তিকে একটি বড় খবর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা সংলাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যে বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন, এই চুক্তি তারই একটি বড় অগ্রগতি। এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের পথ প্রশস্ত করবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা খাতের সহযোগিতা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে ভারত ঠিক কতগুলো জ্যাভেলিন কিনছে বা এর পেছনে মোট কত ব্যয় হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি এবং নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত জ্যাভেলিন মূলত কাঁধে বহনযোগ্য একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ব্যবস্থা, যা যৌথভাবে তৈরি করেছে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স। এই অস্ত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুক্ত থাকায়, এটি ছোড়ার পর নিজ থেকেই লক্ষ্যবস্তুকে তাড়া করতে পারে। এর ফলে সেনাসদস্যরা নিক্ষেপের পরপরই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে শত্রুর পাল্টা আক্রমণ এড়াতে সক্ষম হন। জ্যাভেলিন মূলত ট্যাংকের সবচেয়ে কম সুরক্ষিত অংশ, অর্থাৎ ওপরের অংশে বা ‘ক্যানোপিতে’ আঘাত হানে। ওজনে হালকা হওয়ায় এটি ব্যবহারের পর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করা যায় এবং বিশেষ নকশার কারণে বহুতল ভবন বা বাংকারের মতো আবদ্ধ জায়গা থেকেও নিরাপদে এটি নিক্ষেপ করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম কেনার পরিধি সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ভারতের কাছে সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভেলিন ব্যবস্থাসহ প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক খাতে ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বে ভারতের অবস্থান পঞ্চম এবং ইউক্রেনের পর ভারতই বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/পিআরএএন