সুইস আল্পসে আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইউরোপের সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলত।
বিবিসি’র বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য ব্রাসেলস, বার্লিন কিংবা প্যারিসের মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতে অপমানজনক, উদ্ধত এবং তথ্যগতভাবে ভুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে তিনি হয়তো ভুলে গেছেন, সুইজারল্যান্ডের প্রধান সরকারি ভাষাই হলো জার্মান।
ট্রাম্প তার দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১২ মিনিটের বক্তব্যে বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে ইউরোপ ভুল পথে এগোচ্ছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, তিনি ইউরোপকে ভালোবাসেন, কিন্তু ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে মিত্রদের এভাবে আক্রমণ করায় কূটনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। যদিও তিনি এমন এক ভূখণ্ড চাইছেন যার মালিকরা সেটি বিক্রি করতে সম্পূর্ণ নারাজ।
ফোরাম শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আর্কটিক অঞ্চলে তার আকাঙ্ক্ষায় বাধা দেওয়া আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের হুমকি তিনি তুলে নিচ্ছেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক ইস্যুতে একটি 'চুক্তির কাঠামো' তৈরির দাবি করলেও গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা পাওয়ার বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা মেলেনি। এদিকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন জানিয়েছেন, সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি না থাকা ইতিবাচক হলেও প্রেসিডেন্টের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনো অটুট রয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর