আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মিসাইল ঘাঁটি সারিয়ে নিচ্ছে ইরান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো পুনরায় সচল করতে তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ক্ষেপণাস্ত্র শহর বা 'মিসাইল সিটি'র প্রবেশপথে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ও ফ্রন্ট-এন্ড লোডার ব্যবহার করছে ইরান।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এসব ঘাঁটির প্রবেশপথে হামলা চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অকেজো করার চেষ্টা করেছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ৪০ দিনের তীব্র যুদ্ধের পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অক্ষত রয়েছে, যার একটি বড় অংশ হামলার কারণে ভূগর্ভে আটকা পড়েছিল।

 

পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে গত ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। এই কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই ওয়াশিংটন ও তেহরান নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লায়ার মনে করেন, যুদ্ধবিরতির সময় সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের এই চেষ্টা ইরানের কৌশলেরই অংশ। তার মতে, প্রথম আঘাত সহ্য করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পুনরায় পাল্টা হামলা চালানোই হলো ইরানের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিগুলোর মূল লক্ষ্য।

 

এদিকে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদের বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ উপস্থিত থাকলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে। আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় দফায় এই সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে ওয়াশিংটন।

 

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকতে পারেন। তেহরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া না গেলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতার পথ খোলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

সূত্র: সিএনএন

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন