আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সফল কূটনৈতিক বৈঠকের পর অবশেষে নতুন করে একটি যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। গত ৩ জুন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আয়োজনে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

 বৈঠকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের চিফ অফ স্টাফ ড্যানিয়েল হলার, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার, লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ব্যাপক সংঘাতের মধ্যেই এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাটি এলো।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রকাশিত একটি যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মূল শর্ত হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়ার সমস্ত প্রকার গোলাবর্ষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। একই সাথে দক্ষিণ লিতানি সেক্টর থেকে হিজবুল্লাহর সমস্ত সদস্যকে সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে চুক্তিতে।

"উভয় পক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে, যেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী সকল অরাষ্ট্রীয় পক্ষকে বাদ দিয়ে ভূখণ্ডটির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নেবে।"


এর আগেও চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দুই দেশ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। এমনকি ওয়াশিংটনে এই আলোচনার দিনও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন এবং বৈরুতের দক্ষিণে একটি গাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে তারা হিজবুল্লাহর ছোড়া একটি শত্রু বিমান প্রতিহত করেছে।

মূলত গত মার্চ মাসে ইসরায়েল হিজবুল্লাহকে তাড়া করতে লেবাননে অভিযান শুরু করে। এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যে সংঘাত নিরসন চুক্তি হয়েছিল, সেখানে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এই নতুন চুক্তিটি সম্পাদিত হলো।

 

গত সোমবার ঘোষিত একটি প্রাথমিক মার্কিন মধ্যস্থতার চুক্তির সুবাদে ইসরায়েল ইতিমধ্যেই বৈরুতের হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে হামলা চালানো থেকে বিরত রয়েছে এবং হিজবুল্লাহও তাদের আন্তঃসীমান্ত আক্রমণ বন্ধ করেছে।

 

উভয় পক্ষই জানিয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং অন্যান্য অমীমাংসিত সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে আগামী ২২শে জুনের সপ্তাহে দুই দেশের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে পুনরায় মিলিত হবেন।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন