ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পাকিস্তানের পথে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে তার এই সফর শুরু হয়েছে।
যাত্রার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেডি ভ্যান্স মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, "ইরানিরা যদি সরল বিশ্বাসে বা সদিচ্ছার সাথে আলোচনা করতে রাজি থাকে, তবে আমরা অবশ্যই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।" তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন আলোচক দলকে এই আলোচনার বিষয়ে কিছু অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
তবে আলোচনার টেবিলে নমনীয়তার পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, "তারা যদি আমাদের সাথে কোনো ধরনের চালবাজি করার চেষ্টা করে, তবে দেখবে যে এই প্রতিনিধি দল মোটেও নমনীয় নয়।"
জেডি ভ্যান্সকে বহনকারী বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স টু’ নিয়মিত সূচি অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহের জন্য প্যারিসে একটি যাত্রাবিরতি করেছে। সেখান থেকে প্রতিনিধি দলটি সরাসরি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি দলের আরও দুই প্রভাবশালী সদস্য- প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। কুশনার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
উল্লেখ্য, জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ উভয়ই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞ। এর আগে তারা ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের এই অভিজ্ঞতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে বড় ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে আয়োজিত এই শান্তি আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি মাইলফলক হতে পারে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এসএফএল