যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পেলেই কেবল হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তরের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবায়ী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ট্রানজিট ফির ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাবাতাবায়ী বলেন, প্রণালি বন্ধের জেরে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন, তা আসলে চরম হতাশা ও ক্ষোভ থেকে আসা আজেবাজে কথা ছাড়া আর কিছু নয়।
এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানি মিশন বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির বেসামরিক জনগণের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, জাতিসংঘের বিবেক যদি জাগ্রত থাকত, তবে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার এমন নির্লজ্জ হুমকির মুখে তারা নীরব থাকত না। ট্রাম্প এই অঞ্চলকে একটি অন্তহীন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাইছেন বলেও ইরান দাবি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি বেসামরিক নাগরিকদের আতঙ্কিত করার সরাসরি উসকানি এবং যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের ইচ্ছার স্পষ্ট প্রমাণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এ ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইরান বলেছে, আগামীকাল অনেক দেরি হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হলো যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক ফোনালাপের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এফএইচআর