চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবক্ষয়ের কারণে মানবজাতির ভবিষ্যৎ দুঃখজনকভাবে ঝুঁকির মুখে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আফ্রিকার চার দেশ সফরের শেষ পর্যায়ে নিরক্ষীয় গিনিতে দেওয়া এক বলিষ্ঠ ভাষণে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ইতিহাসের প্রথম মার্কিন পোপ হিসেবে লিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হয়েছে। পোপ এদিন পৃথিবীর তেল ও খনিজ সম্পদের উপনিবেশিকরণ বা অবৈধ দখলের তীব্র নিন্দা জানান। তাঁর মতে, এই সম্পদ দখলের লালসাই বিশ্বজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।
১.৪ বিলিয়ন ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীর এই আধ্যাত্মিক নেতা প্রেসিডেন্ট তিওদোরো ওবিয়াং নুগুয়েমা এমবাসোগো এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে বলেন, "রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করলে মানবসভ্যতার ভাগ্য চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "ঈশ্বর এমনটা চান না। আধিপত্য বিস্তার, ঔদ্ধত্য বা বৈষম্যের মাধ্যমে তাঁর পবিত্র নামকে কলঙ্কিত করা উচিত নয়। বিশেষ করে, মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের ন্যায্যতা দিতে ধর্মের দোহাই দেওয়া কখনোই কাম্য নয়।"
১০ দিনের এই উচ্চাভিলাষী আফ্রিকা সফরে পোপ লিও যুদ্ধ, অসমতা এবং বিশ্ব নেতৃত্বের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে অ্যাঙ্গোলা থেকে মালাবো আসার পথে বিমানে তিনি তাঁর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
গত সোমবার অ্যাঙ্গোলায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বের বহু মানুষ আজ স্বৈরাচারীদের দ্বারা শোষিত এবং ধনীদের দ্বারা প্রবঞ্চিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, নিরক্ষীয় গিনির প্রেসিডেন্ট ওবিয়াং ১৯৭৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন, যাকে বিশ্বের দীর্ঘকালীন এবং অন্যতম নিপীড়ক শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও তাঁর সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পোপের এই মন্তব্যগুলোকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে খ্রিস্টীয় ভাষা ব্যবহার করছেন, তখন পোপের এই অবস্থান সরাসরি তাঁর বিপরীতে যাচ্ছে। পোপ লিও গত মার্চ মাসেও বলেছিলেন যে, যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা গ্রহণ করেন না।
নিরক্ষীয় গিনির প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ক্যাথলিক। দুই দিনের এই সফরে পোপ স্প্যানিশ ভাষায় বক্তব্য রাখছেন। বুধবার তিনি দেশটির বাটা শহরের একটি উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগার পরিদর্শন করবেন, যেখানে বহু রাজনৈতিক বন্দিকে বিনা বিচারে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি ২০২১ সালে একটি সামরিক ব্যারাকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা করবেন। ওই দুর্ঘটনায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/এসএফএল