যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন তিনগুণ বাড়িয়েছে। শনিবার ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মাজিদ ইবনে রেজা এই তথ্য জানিয়েছেন। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তিতে তেহরানের এই বিনিয়োগ সংঘাতের সময় দেশের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়াতে সহায়তা করেছে।
পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে উন্নত প্রযুক্তিতে ইরানের বিনিয়োগ তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত অত্যাধুনিক সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিল। তার দাবি অনুযায়ী, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সহায়তা করেছিল। তবে এতসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উভয় যুদ্ধেই ইরান সফলভাবে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতের যেকোনো হামলা মোকাবিলায় ইরানের সব প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জোর দিয়ে জানান।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধ এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করতে গত জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে এই চুক্তি থাকা সত্ত্বেও চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ইস্যুতে উভয় পক্ষই ফের সংঘাতে জড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে ইরানও ওই অঞ্চলে মার্কিন বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/পিআরএএন