আন্তর্জাতিক, এশিয়া

যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে না: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থেকে কখনোই সরে আসবে না ইরান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধের হুমকি দিয়ে বা সামরিক ভয়ভীতি দেখিয়ে তেহরানকে তাদের অবস্থান থেকে সরানো যাবে না।

তেহরানে আয়োজিত এক ফোরামে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা খুবই কম এবং ওয়াশিংটন পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে আদৌ কতটা আন্তরিক তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জোর দিয়ে বলেন, কেউ তাদের ওপর জোর করে কোনো আচরণ চাপিয়ে দিতে পারে না বলেই তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়ে অনড় থাকবেন। এমনকি তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও তারা এই অধিকার ত্যাগ করবেন না। 

 

আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সামরিক মহড়া বা যুদ্ধের হুমকি তাদের ভীত করতে পারবে না। ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে বলে পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসরায়েল যে অভিযোগ করে আসছে, তা নাকচ করে দিয়ে আরাঘচি বলেন, তারা পারমাণবিক বোমা খুঁজছেন না। বরং পরাশক্তিদের মুখের ওপর ‘না’ বলার ক্ষমতাটুকুই তাদের কাছে পারমাণবিক বোমার সমতুল্য।

 

দীর্ঘ বিরতির পর গত শুক্রবার ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরান চাইছে তাদের ওপর থেকে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক, যার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে আলোচনার আবহেই মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শনিবার ওই রণতরী পরিদর্শন করেন। উইটকফ জানান, এই রণতরী এবং স্ট্রাইক গ্রুপটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে।

 

একদিকে ট্রাম্প আলোচনাকে ‘খুবই ভালো’ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একে ‘সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, অন্যদিকে যুদ্ধের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। আলোচনার প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার পরই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন এবং ইরানের তেল রপ্তানি দমাতে জাহাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আলোচনার ভবিষ্যৎ এই সংকেতগুলোর ওপর নির্ভর করবে।

 

অর্থনৈতিক অসন্তোষের জেরে গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এবং সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে যে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ৩,১১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং রোববার ২,৯৮৬ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে যে এদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা সাধারণ পথচারী। 

 

তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৬,৯৬১ জন নিহত হয়েছেন যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী এবং ৫১,০০০ এরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

সূত্র: ফ্রান্স ২৪

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন