আন্তর্জাতিক, আরব

যুদ্ধ বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই শান্তির ন্যূনতম শর্ত: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি মঙ্গলবার (১২ মে) জানিয়েছেন, যেকোনো কার্যকর শান্তি আলোচনার জন্য চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা, অবরোধ তুলে নেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা ন্যূনতম শর্ত। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির পরিবর্তে চাপের রাজনীতি চালিয়ে যেতে চাইছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ঘারিবাবাদি বলেন, হুমকি, অবজ্ঞা এবং জোরপূর্বক ছাড় আদায়ের মাধ্যমে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।


ঘারিবাবাদি উল্লেখ করেন, ইরান যে শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে তা আত্মসমর্পণের দলিল না হওয়ার কারণেই ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, যখন একটি পক্ষ সরাসরি যুদ্ধে জড়িত থেকে এবং অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে তাদের মূল উদ্দেশ্য শান্তি নয়, বরং চাপের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া।


ইরানি এই কূটনীতিক স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরানের নীতিগুলো অত্যন্ত স্বচ্ছ। এর মধ্যে রয়েছে-স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ইরানের সার্বভৌম অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।


তিনি আরও যোগ করেন, এগুলো কোনো সর্বোচ্চ দাবি নয়; বরং জাতিসংঘ সনদের আলোকে একটি সংকট নিরসনের জন্য এগুলো ন্যূনতম প্রয়োজনীয়তা।
পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা একদিকে অবরোধ জারি রেখে যুদ্ধবিরতির কথা বলতে পারেন না। কূটনীতির বুলি আউড়ে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা কিংবা অস্থিরতার মূল হোতা হিসেবে পরিচিত একটি শাসনগোষ্ঠীকে সামরিক সমর্থন দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দাবি করা স্ববিরোধী।


তার মতে, এটি কোনো আলোচনা নয়, বরং কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে জবরদস্তিমূলক নীতিরই ধারাবাহিকতা।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।


পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন।


গত রবিবার ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠালেও ট্রাম্প সেটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন। ইরানের দাবি, তাদের প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন