জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে যুবকদের অপমানজনক বেকার ভাতা নয়, বরং তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা নিজেদের উজাড় করে দেশের সেবায় নিয়োজিত করতে পারেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ বাংলাদেশকে উর্বর মাটি ও বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। কিন্তু ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে দুবার স্বাধীন হওয়ার পরেও গত ৭৭ বছরে অসৎ নেতৃত্বের কারণে দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীরা দেশের পাসপোর্টের মান কমিয়ে দিয়েছে এবং বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যারা জনগণকে ধোঁকা দিয়ে শোষণ করেছে, তারা দেশকে এগোতে দেয়নি।
যুবসমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তরুণেরা আর ধান্দাবাজি ও ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সাথে নেই এবং তারা ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাইয়ের যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের প্রত্যাখ্যান করেছে। যারা জনগণের ওপর অত্যাচার, চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠন করে, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ ও মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেউ কেউ হিজাব ও নেকাব খুলে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, যা অত্যন্ত গর্হিত এবং অমানবিক আচরণ। তিনি এসব সমালোচনার তোয়াক্কা না করে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। হেলিকপ্টারযোগে সমাবেশে পৌঁছে তিনি জেলার ১১টি আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামাল আহসানের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোজাম্মেল হক আকন্দের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান আকন্দ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ডিবিসি/এফএইচআর