ক্রমে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে আমেরিকার পরিস্থিতি। ‘সাইক্লোন বোমা’ বা তুষারঝড়ে বিধ্বস্ত গোটা দেশ। এমনকি উত্তর আমেরিকা মহাদেশের একটি বিস্তীর্ণ অংশ প্রবল ঠান্ডায় প্রায় জমে গিয়েছে। আমেরিকার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের এই পরিস্থিতি ইতিহাসে বিরল। যা অতীতের সমস্ত শীতের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। কানাডায় ইতিমধ্যে তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে হিমাঙ্কের ৫৩ ডিগ্রি নীচে।
তুষারঝড়ের কারণে আমেরিকার রাস্তায় পুরু বরফের আস্তরণ জমে গিয়েছে। কোথাও কোথাও তার উচ্চতা ৮ থেকে ১০ ফুট। যার ফলে দেশে যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। এখনও পর্যন্ত ১৫ হাজার বিমান বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে আমেরিকার কোনায় কোনায়। প্রায় ২ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন ভাবে বাস করছেন। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য-অক্ষাংশের ঝড়ের কেন্দ্রভাগে বাতাসের চাপ কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টার জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১ মিলিবার হারে হ্রাস পেলে তাকে ‘বম্ব সাইক্লোন’বলা যায়।
বিষয়টির ব্যাখ্যায় আবহাওবিদরা জানিয়েছেন, সাধারণত স্বাভাবিক অবস্থায় বাতাসের চাপ প্রায় ১ হাজার ১০ মিলিবার থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এখন ঝড়ের প্রভাবে বাতাসের চাপ ১ হাজার ৩ মিলিবার থেকে ৯৬৮ মিলিবারে নেমে যেতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। বাতাসের চাপ ৩৫ মিলিবার কমে গেলেই তা ‘বম্ব সাইক্লোন’ ঘটানোর জন্য যথেষ্ট।
অন্যান্য ঘূর্ণিঝড়ের মতোই ঠান্ডা এবং গরম বাতাসের তীব্র সংঘর্ষের ফলে এর উৎপত্তি হয়। সাধারণত, ঠান্ডা এবং শুষ্ক বায়ু উত্তর দিক থেকে নীচে নামে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস গ্রীষ্মমণ্ডল থেকে উপরে ওঠে আসে। এই দুই বিপরীতমুখী বাতাসের সংঘর্ষে ‘বম্ব সাইক্লোন’ তৈরি হয়। উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে ওঠে মেঘের সৃষ্টি হয়। এরপর এটি বম্ব সাইক্লোনে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল সোয়াইন সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে জানিয়েছেন, বম্ব সাইক্লোন এবং সাধারণ ঘুর্ণিঝড়ের মিল রয়েছে। দু’টিতেই ঝড়ো হাওয়া, ভারী বর্ষণ এবং ঝড়ের কেন্দ্রে একটি চোখ তৈরি হয়। তবে ঘুর্ণিঝড় এবং বম্ব সাইক্লোন আলাদা বিষয়।
আবহাওয়াবিদ ড্যানিয়েল আরও জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে তৈরি হয়। এ কারণে গ্রীষ্মে বা শরতের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড় দেখা যায়, তখন সাগরের পানি সবচেয়ে উষ্ণ থাকে। তবে বম্ব সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের পানির প্রয়োজন নেই। এ ধরনের সাইক্লোন স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রের উপরেও দেখা দিতে পারে। মূলত শরতের শেষে এবং বসন্তের শুরুতে সবচেয়ে বেশি ‘বম্ব সাইক্লোনের’ দেখা মেলে।