বিবিধ, লাইফস্টাইল

যে লক্ষণ দেখলে বুঝবেন সম্পর্কে ব্রেকআপ হতে যাচ্ছে

Faruque

ডিবিসি নিউজ

মঙ্গলবার ২৮শে ডিসেম্বর ২০২১ ১০:১৪:৪০ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভালোবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বেশ কষ্টের। এজন্য নারী-পুরুষ উভয়েরই অবদান ও আত্মত্যাগ জরুরি। ছোট ছোট বিষয়ে একে অন্যকে ছাড় না দেওয়া, অবিশ্বাস করা কিংবা ক্ষণে ক্ষণে ঝগড়া, এসব কারণে সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর ফলে ওই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলেও তাতে প্রাণ থাকে না।

এমন সম্পর্কে দুজনের একজনও সুখী হতে পারে না। তাই কিছু লক্ষণ আছে, যেগুলো দিনের পর দিন দেখা দিলেই ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জেনে নিন কোন কোন লক্ষণ ব্রেকআপের ইঙ্গিত দেয়-

১. যখন পুরনো স্মৃতি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়
আপনি কি বার বার চিন্তা করেন কিংবা কথায় কথায় অতীতের ভালো স্মৃতি মনে করেন? এটা একটা পরিষ্কার লক্ষণ যে আপনি খুশি নন। অতীতের স্মৃতি আপনার একসঙ্গে থাকার কারণ হওয়া উচিত নয়। মনে রাখবেন যে অতীতে নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনাদের একসঙ্গে থাকা আনন্দের হতে হবে।

২. সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে খুঁজে না পাওয়া
সম্পর্কে দু'জন সঙ্গীর একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া উচিত। কিন্তু আপনি যদি নিজের ব্যক্তিত্বের এমন কোনও পরিবর্তন দেখতে পান যা আপনি পছন্দ করেন না তবে সম্পর্কটি আপনার পক্ষে স্পষ্টতই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। কোনো স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে, দু'জন সঙ্গীর একে অপরের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা উচিত।

৩. প্রাক্তন’ বা ‘পরিবার বা বন্ধু’ বা অন্য কারও সঙ্গে অন্য ধরনের কোনো সম্পর্ক
আপনি যদি ক্রমাগত অন্য কারও সঙ্গে আপনার পার্টনারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন, বিশেষত যদি সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি আপনার সঙ্গীর প্রাক্তন হয়ে থাকে, তবে এটি সমস্যার স্পষ্ট লক্ষণ। যা আসলে সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত, এটি আপনাদের উভয়ের জন্য ক্ষতিকারক। একাধিক আলোচনার পরেও যদি এই সমস্যার সমাধান না হয় তবে সম্ভবত আপনার সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে আসার সময় এসেছে।

৪. শারীরিক ঘনিষ্ঠতা যখন বাধ্যতামূলক মনে হয়
স্বাস্থ্যকর যৌনজীবন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তবে যদি আবেগ হারিয়ে যায় এবং আপনি আপনার সঙ্গীর প্রতি আর আগ্রহী না থাকেন এবং সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় আপনি আর স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করেন তাহলে হয় তো নিজের সম্পর্কের স্থায়ীত্ব নিয়ে ভাবার সময় এসে গিয়েছে।

৫. সামান্য কথাতেও তর্ক বাঁধে
আপনার সঙ্গীর সঙ্গে দৈনন্দিন কথাবার্তা কি সব সময়ই তর্কের পর্যায়ে চলে যায়? ছোটখাটো তর্ক সব সম্পর্কেই হয়। কিন্তু যখন রুটিন কথোপকথনই পুরোপুরি লড়াইয়ে পরিণত হয়, তখন একে অপরের প্রতি স্বাচ্ছন্দ্য কমে যায়। যা ধীরে ধীরে দু'জনের মধ্যে কম যোগাযোগ বা একেবারেই যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। আর কোনও সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ না থাকা সম্পর্কের জন্য ঝুঁকির বিষয়।

৬. অন্য মানুষদের প্রতি আকর্ষণ
অন্য কারও প্রতি আকর্ষিত হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সেই আকর্ষণ যদি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে অবশ্যই তা ভাবার বিষয়। প্রায়ই কারও সম্পর্কে চিন্তা করা এবং কল্পনা করা এটাই প্রমাণ করে যে আপনি আপনার সঙ্গীর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। আপনি যদি ক্রমাগত আপনার সম্পর্কের বাইরে কোনও সঙ্গ খোঁজেন তাহলে আপনার বর্তমান সম্পর্কের উদ্দেশ্য হারিয়ে গিয়েছে।

৭. যখন পরিবর্তনের প্রবল প্রত্যাশা রয়েছে
আপনার প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতি রাখতে আপনার সঙ্গীকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করলে তা একেবারেই হতাশাজনক। এর ফলে আপনার সঙ্গী শুধু সম্পর্কে দমবন্ধ বোধ করবেন না, আপনার সম্পর্কও বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। মনে রাখবেন, আপনার সঙ্গীর অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য আপনার তাঁকে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়েছিল, শুধু আপনার ছায়া হয়ে থাকার জন্য আপনি প্রেমে পড়েননি।

৮. অনবরত আত্মপক্ষ সমর্থন প্রয়োজন
ব্যাখ্যা দেওয়ার এবং সেটি ন্যায়সঙ্গত করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যদি আপনাকে প্রত্যেকটি কাজের নেপথ্যের যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে আপনার কাজটি গ্রহণযোগ্য নয়। সম্পর্ক উভয়কে বোঝা, বিশ্বাস এবং গ্রহণযোগ্যতার উপর তৈরি হয়। এর জন্য একে অপরের জীবনে উপযুক্ত হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়, এটি দু'জনেরই নিজেদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই আসা উচিত।

৯.যখন মানসিক/শারীরিক/মৌখিক নির্যাতন হয়
যে কোনও ধরনের নির্যাতন- শারীরিক, মানসিক, আবেগপ্রবণ, মৌখিক যাই হোক না কেন তা একেবারের উচিত নয়। পরিস্থিতি বা কারণ নির্বিশেষে কিছুই অপব্যবহারকে ন্যায়সঙ্গত করে না। যদি কোনও ঘটনায় কোনও ধরনের অপব্যবহারের লক্ষণ থাকে তবে সম্পর্কটি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে বুঝতে হবে এবং আপনার এর থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।

১০. আপনার লক্ষ্য এবং মূল্যবোধ না মেলার উপলব্ধি
অসম্মতি থেকে সম্মতির দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রতিটি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এমনকি সুখী পার্টনারদের মধ্যেও মতের অমিল থাকে যা কার্যত সম্পর্ককে প্রাণবন্ত করে রাখে। কিন্তু ভালোবাসা, সততা, বাচ্চা ইত্যাদি মূল বিষয়ে যদি বিশাল পার্থক্য থাকে তাহলে তা দু'জনের মধ্যে ফাটল তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কে পেশাদার পছন্দ, জীবনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং এই ধরনের বিষয়গুলির ক্ষেত্রে একই মানসিকতা থাকা জরুরি। যদি আপনি বুঝতে পারেন যে আপনারা দু'জনেই একেবারে বিপরীত মেরুর মানুষ তবে সেক্ষেত্রে কোনও আপোস করার সম্ভাবনা কম থাকে। যদি আপনি একসঙ্গে ভবিষ্যতের কথা ভেবে থাকেন তাহলে এই ধরনের লক্ষণ আপনার উপেক্ষা করা উচিত নয়।

আরও পড়ুন