মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) পদে যোগদানের মাত্র সাতদিনের মধ্যে রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহারের ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নবনিযুক্ত এসপি রিয়াজুল ইসলাম জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করে আগামী ১৬ মে’র মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। তবে এই আকস্মিক প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আদেশে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে একইদিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘আড়াই কোটির চুক্তিতে এসপি হয়েও ঘুষের অর্থ দিচ্ছে না এসপি রিয়াজুল!’ শিরোনামের ওই পোস্টে দাবি করা হয়, গত ৫ মে ১২ জেলার এসপিসহ ৩৯ কর্মকর্তার বদলিতে বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে।
বিশেষ করে মৌলভীবাজারের এসপি হিসেবে রিয়াজুল ইসলামের নিয়োগের পেছনে আড়াই কোটি টাকার চুক্তি এবং এর সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ থাকার দাবি করা হয় ওই পোস্টে। সেখানে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পাওয়ার পর চুক্তিকৃত অর্থের পুরোটা পরিশোধ না করে তিনি টালবাহানা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে এক আত্মীয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে।
এ ছাড়া ওই পোস্টে রিয়াজুল ইসলামকে বুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের আজীবন সদস্য হিসেবে দাবি করে তার নিয়োগের নেপথ্যের ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলামের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা জানিয়েছেন, প্রত্যাহারকৃত পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম জেলা পুলিশের দায়িত্বভার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীনের কাছে বুঝিয়ে দেবেন।
ডিবিসি/আরএসএল