বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যা হ্রাস এবং অবৈধ, অসতর্ক ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) নয়া দিল্লিতে সমাপ্ত হওয়া চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিএসএফ সদর দপ্তরে গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই ৫৭তম দ্বিবার্ষিক ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য চোরাচালান রোধসহ মানব পাচার এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
এ ছাড়া দুই দেশের প্রতিনিধিরা সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং সীমান্ত এলাকার উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন।
চলতি বছরের শুরুতে ঢাকায় নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর-উভয় দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশের ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬ কিমি) অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুই পক্ষই সমন্বিত যৌথ টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রচেষ্টা আরও গতিশীল করতে সম্মত হয়েছে।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সীমান্ত এলাকার জনগণকে সচেতন করতে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয় উভয় পক্ষ।
বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে বৈঠকটিকে আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সম্মেলন শেষে সব সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক হলেও, এই বৈঠকের ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আলোচনার চূড়ান্ত দিনে যৌথ কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের পর ঐতিহ্যগতভাবে দুই বাহিনীর মহাপরিচালকদের যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার প্রথা রয়েছে, তা এবার অনুষ্ঠিত হয়নি।
আগামী নভেম্বর মাসে এই সম্মেলনের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফর করবে।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডিবিসি/এসএফএল