রংপুর মহানগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- রংপুরের মাহিগঞ্জ থানার পূর্বখাসবাগ এলাকার দুলাল মিয়া (৪৫) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার ফিরোজা বেগম (৫৫) ও রেজাউল ইসলাম (৫৫)। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে মাহিগঞ্জ থেকে দুলালকে এবং ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কালীগঞ্জ থেকে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার বিকেলে র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে নুরুন্নবী বাদী হয়ে তাজহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বিয়ে, তালাক ও টাকা-পয়সার বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। দুলাল মিয়া নিহত আব্দুর রহমানের গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন। অন্যদিকে প্রায় দুই বছর আগে ফিরোজা বেগমের স্বামী মারা যান। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে আব্দুর রহমানের প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে চলে গেলে, দুলাল মিয়ার মধ্যস্থতায় ফিরোজা বেগমের সঙ্গে আব্দুর রহমানের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই তাদের বিরোধ দেখা দেয়। ফিরোজা বেগম সংসার করতে অস্বীকৃতি জানালে দুলালের মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের তালাক সম্পন্ন হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, তালাকের পর ফিরোজা বেগমের কাবিনের ৫০ হাজার টাকা দুলাল মিয়া নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের আগের দিন অটোরিকশা উদ্ধারের কথা বলে তিনি ফিরোজার কাছে আরও চার হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলেও ফিরোজা একটি অটোরিকশা দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে দুলাল মিয়া ও ফিরোজা বেগমের সঙ্গে রেজাউল ইসলাম যুক্ত হন এবং তিনজন পরস্পর যোগসাজশে আব্দুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
গ্রেপ্তার তিন আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট তাজহাট থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। এ বিষয়ে তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, র্যাবের হস্তান্তর করা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হবে। ঘটনা সম্পর্কে আরও বিশদ জানতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
ডিবিসি/আরএসএল