সম্প্রতি রংপুরে বিষাক্ত রেকটিফাইড স্পিরিট পানে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গাজীপুর মহানগরীতে এক অভিযানে ২১'শ লিটার অবৈধ রেকটিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কুদাব এলাকায় অবস্থিত ‘সেবা হোমিও ল্যাবরেটরি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় ডিএনসির একটি চৌকস দল। অভিযানে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২১০০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিট জব্দ করা হয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম এবং কথিত হোমিও চিকিৎসক সাদিকুজ্জামান। ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই স্পিরিট মজুদ ও বিক্রি করে আসছে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর ডিএনসির সদস্যরা ক্রেতা সেজে ওই চক্রের সাথে যোগাযোগ করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন বিক্রেতারা পণ্য ডেলিভারি দিতে আসেন, তখন ফাঁদ পেতে থাকা ডিএনসি কর্মকর্তারা তাদের হাতেনাতে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ল্যাবরেটরি ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ড্রাম ও বোতলভর্তি বিপুল পরিমাণ অবৈধ স্পিরিট উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শাহীন মাহমুদ অভিযানের বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, জব্দকৃত ২১০০ লিটার রেকটিফাইড স্পিরিটের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রেকটিফাইড স্পিরিট মজুদ ও বিক্রির জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু ‘সেবা হোমিও ল্যাবরেটরি’ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের আড়ালে অবৈধভাবে এই কারবার চালিয়ে আসছিল এবং সারাদেশে এসব স্পিরিট ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা তাদের দীর্ঘদিনের অবৈধ কারবারের কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পূবাইল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ডিএনসি নিশ্চিত করেছে।
ডিবিসি/এএমটি