রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান (৫৫) ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে রংপুরে যাওয়ার পথে মিঠাপুকুর এলাকায় অজ্ঞাত একটি ঢাকাগামী বাসের ধাক্কায় তারা দুজন গুরুতর আহত হন। এ সময় ঘটনাস্থলেই আনিসুর রহমানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী আফিয়া বেগমকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
শুক্রবার স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। এরপর আনিসুর রহমানকে দাফন করা হলেও মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলের অপেক্ষায় আফিয়া বেগমের দাফন স্থগিত রাখা হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছিল। এ সময় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা’ মানবিক সহায়তা হিসেবে তাদের একমাত্র ফ্রিজিং কফিনটি দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে।
সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মায়ের শেষ মুখটি দেখতে প্রবাসী ছেলেটি দেশে ফিরছেন। তার অনুরোধেই আফিয়া বেগমের দাফন এখনও সম্পন্ন হয়নি। ছেলে পৌঁছালেই দাফন কাজ শেষ হবে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে, গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, একটি মাত্র কফিন দিয়ে পুরো জেলায় সেবা দেওয়া কঠিন হলেও কোনো সন্তান যেন তার বাবা-মায়ের শেষ দেখা থেকে বঞ্চিত না হয়, তারা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নাসিম জানান, সংস্থাটি পাশে না দাঁড়ালে ছেলেটি তার মায়ের মুখ শেষবারের মতো দেখতে পারতো না। মর্মান্তিক এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষ গভীরভাবে শোকাহত।
ডিবিসি/আরএসএল