আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন রংপুর-৩ (সদর) আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী, তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা ইসলাম রানী।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নগরীর নূরপুর এলাকায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, “প্রিয় রংপুরবাসী, আমাকে ভুল বুঝবেন না। হিজড়া সম্প্রদায়সহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসছি। গেল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমি ২৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছিলাম। সে সময় জনগণের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের সেই ভালোবাসা ও প্রত্যাশা থেকেই এবারও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করি। তবে কোনো চাপ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, একটি যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে একেবারে অন্তিম মুহূর্তে এসে আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি।”
আনোয়ারা ইসলাম রানী তার দাবির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “যেভাবে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসন রয়েছে, ঠিক সেভাবেই সংরক্ষিত কোটার আওতায় হিজড়া জনগোষ্ঠীকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। সংশ্লিষ্ট মহল ভবিষ্যতে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষিত কোটায় অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী হবে এটাই আমার প্রত্যাশা। একই সাথে আমরা সমাজের বা রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে থাকতে চাই না; আমরা রাষ্ট্রের সম্পদ বা অংশ হয়ে অবদান রাখতে চাই। জুলাই সনদসহ সংশ্লিষ্ট কাঠামোতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত আসন অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান তিনি।”
একই সঙ্গে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রংপুর–৩ আসনে তাঁর প্রতীক 'হরিণ'-এ ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সকলের সহযোগিতা নিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে কাজ করে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রানীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও তাঁর নিজ গোত্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রংপুর-৩ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীক নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে আলোচনায় ছিলেন আনোয়ারা ইসলাম রানী। হঠাৎ করেই তাঁর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়ালসহ মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আনোয়ারা ইসলাম রানী জিএম কাদেরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২৩ হাজার ৩২৬ ভোট পেয়েছিলেন।