যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া ১৯ বছর বয়সী এক মার্কিন নৌসেনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গত ৩ আগস্ট দায়িত্ব পালনকালে তিনি রণতরী থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন, যা তার স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা বলে দাবি করেছেন। প্রায় এক ঘণ্টা পানিতে থাকার পর উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধার করে সান ডিয়েগোতে পাঠায়।
অভিযোগপত্রে ওই সেনার বিরুদ্ধে দায়িত্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী আঘাতের মিথ্যা ভান করা এবং বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। সামরিক আদালতের বাইরে ক্যাপ্টেনস মাস্ট প্রক্রিয়ায় তার বিচার চলছে, যার ফলে তিনি বেতনের অর্ধেক পর্যন্ত হারাতে পারেন। উপযুক্ত মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে এমন শাস্তি প্রদানকে অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন তার স্ত্রী।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের চাপ ও মানসিক অবসাদের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এক কন্যাসন্তানের জন্ম হলেও তাকে পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয়নি। এর আগে রণতরীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের কাছে মানসিক সহায়তার আবেদন জানিয়েও কোনো সাড়া পাননি বলে তিনি আগেই স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট অভিযানে যুক্ত ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কোনো বিরতি ছাড়াই টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে। রেকর্ড সময়ের এই মোতায়েনের কারণে রণতরীর প্রায় ৫ হাজার সেনার মনোবল, জীবনযাত্রার পরিবেশ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাদের পরিবারগুলো।
তবে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সেনাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। নৌবাহিনীর একজন মুখপাত্র দাবি করেন, তারা সব সেনার মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি পূর্ণ যত্নশীল এবং সহায়তা চাওয়ার প্রক্রিয়াকে সবসময় উৎসাহিত করা হয়।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন