রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একটি মৃত বুনো হাতির শুঁড় ও পা কেটে নিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। শুধু তাই নয়, দাফন করার পর গভীর রাতে পুনরায় মাটি খুঁড়ে হাতির মাংস চুরির চেষ্টাও চালিয়েছে তারা। গত রবিবার ও সোমবার রাতে উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় ৬০ বছর বয়সী একটি এশিয়ান পুরুষ বুনো হাতির মৃতদেহ দেখতে পান বন বিভাগের এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা। তবে সেদিন মৃত হাতিটির পাশে একটি সঙ্গী হাতি শোকাতুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকায় সেটির কাছে যাওয়া বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরদিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) সঙ্গী হাতিটি সরে গেলে রাতে একদল দুর্বৃত্ত মৃত হাতির শুঁড় ও পায়ের অংশ কেটে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সোমবার বিকেলে বন বিভাগের কর্মীরা মৃত হাতিটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। তবে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পর রাত আনুমানিক ১টার দিকে ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দা ও কোদাল নিয়ে আবারও মাটি খুঁড়ে মাংস চুরির চেষ্টা চালায়। পাহারায় থাকা ইআরটি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত এই হাতিটি ওই এলাকার একমাত্র প্রজননক্ষম বড় পুরুষ হাতি ছিল। দুই বছর আগে দুর্বৃত্তরা এটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এবং ধারালো বর্শা দিয়ে আঘাত করেছিল। সে সময় বন বিভাগ দফায় দফায় চিকিৎসা দিয়ে হাতিটিকে সুস্থ করে তোলে। তবে পুরনো সেই ক্ষত থেকে পুনরায় সংক্রমণ দেখা দিলে গত কয়েকদিন ধরে সেটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হাতিটির মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, হাতির মাংস যাতে কেউ চুরি করতে বা খেতে না পারে, সেজন্য দাফনের সময় শরীরে ব্লিচিং পাউডার ও কেরোসিন তেল দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সোমবার রাতে ২০-২৫ জন লোক মাটি খুঁড়ে মাংস নেওয়ার চেষ্টা করে। আমাদের পাহারাদাররা ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এ কাজ করেছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মৃত হাতির অঙ্গহানি ও মাংস চুরির চেষ্টায় বন বিভাগের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন বন্যপ্রাণী গবেষকরা। তাদের মতে, পাহারা জোরদার থাকলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তবে বন বিভাগের দাবি-দুর্গম জঙ্গল এবং রাতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে সার্বক্ষণিক কঠোর পাহারা দেওয়া দুঃসাধ্য ছিল।
ডিবিসি/এসএফএল