রাঙামাটিতে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জনগণ সাংবিধানিকভাবে তাদের আদিবাসী স্বীকৃতি চায়। ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ কিংবা ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ এসব নামকরণের মাধ্যমে পক্ষান্তরে তাদের অপমান করা হচ্ছে বলে মত তাদের।
জাতিসংঘ ঘোষিত শর্তাবলি অনুসারে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সত্তা বা পরিচয় রয়েছে। তারপরেও আদিবাসী হিসেবে তাদের স্বীকৃতি না মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতি রাষ্ট্রের বিমাতাসূলভ আচরণ প্রকাশ পাচ্ছে বলে মত তাদের।
‘আদিবাসী’ পরিচয় নির্ধারণে জাতিসংঘ যেসব শর্ত দিয়েছে, তার সব শর্তই পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বহন করছে। জাতিসংঘের ৩৩নং আর্টিকেলে আদিবাসী জনগণের স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করেছে। জাতিসংঘ বলেছে, আদিবাসী জনগণের নিজস্ব সত্তা ও পরিচয়ের অধিকার রয়েছে। পাহাড়িদের দাবি, তাদের নিজস্ব সত্তা, পরিচয়, ঐতিহ্য ও ভাষা রয়েছে। ফলে তাদের আদিবাসী স্বীকৃতি পাওয়ার অধিকারও রয়েছে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর শেষে নিজেদের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি হিসেবে পরিচয় দিতে চান না তারা। তাই ‘আদিবাসী’ হিসেবে তারা সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাবি করছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩ টি নৃগোষ্ঠীর বাস। প্রকৃতির সাথে মিশে থাকা পাহাড়ের এসব মানুষ নিজদের পরিচয় নিয়ে এ দেশে বেঁচে থাকতে চান। সরকার বা অন্য কারো চাপিয়ে দেয়া নাম নয় নিজেদের যে সঠিক পরিচয়, তার স্বীকৃতি চান তারা। একই সাথে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষ সকল অধিকার নিয়ে এ দেশে বাস করতে চান এ জনপদের অধিবাসীরা। সেই সাথে আদিবাসী সম্বোধন না করার সরকারি প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি এ জনপদের মানুষের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী সুপ্রিয় চাকমা বলেন, 'আমাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, বর্ণমালা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য সব আছে। আমরা আদিবাসী। তারপরেও সরকার কখনো আমাদের উপজাতি কখনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলে আমাদের ওপর পরিচয় চাপিয়ে দিচ্ছে। আমাদেরকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে সরকারের সমস্যা কোথায়, তা আমার বুঝে আসে না।'
‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ নাকি ‘আদিবাসী’, এ বিতর্ক বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পিংকি চাকমা বলেন, 'আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পাবার অধিকার রয়েছে। কেন সরকার সে স্বীকৃতি দিতে ভয় পাচ্ছে জানি না। কোনো জাতি কখনও ক্ষুদ্র বা উপ হতে পারে না, আমরা আদিবাসী পরিচয় নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই।
এ বিষয়ে আদিবাসী ফোরাম রাঙামাটি জেলার সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি চাকমা বলেন, 'আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করার জন্য সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, আদিবাসী শব্দ ব্যবহার না করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আমাদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হোক।