রাজধানী

রাজধানীতে বাসাভাড়া দিতে দেরি করায় ভাড়াটিয়াকে পিটিয়ে হত্যা!

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর লালবাগ থানার আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার বকেয়া মাত্র এক হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে স্টাফ কোয়ার্টারের ৪ নম্বর ভবনের ৮১ নম্বর ফ্ল্যাটের সামনে এবং সংলগ্ন মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

নিহত স্বপন মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার তাহের ফকিরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। তিনি পেশায় কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন। বর্তমানে তিনি তার ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি কক্ষে ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন।

 

নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, তার ভাই অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কারও সঙ্গে কখনও কোনো বিরোধে জড়াতেন না। তারা দুই ভাই সাবলেটে ওই কক্ষে থাকতেন। অভিযুক্ত রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে মাত্র এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রোববার রাতে রিজভী বকেয়া টাকা চাইলে তারা দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রিজভী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

 

তার দাবি, সোমবার ভোর ৪টার দিকে রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের কক্ষের সামনে এসে চড়াও হন। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাধা দিতে গেলে সেলিমকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্বপনকে জোর করে টেনেহিঁচড়ে স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি লাথি এবং বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

 

একপর্যায়ে স্বপন অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি লালবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন