অপরাধ

রাজধানীর নিউমার্কেটে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত যুবক শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় অপরাধ জগতের এক সময়ের ত্রাস এবং সরকারের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনের বটতলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে ছিলেন। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে ৮টার দিকে টিটন শাহনেওয়াজ হলের সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলাকারীরা অত্যন্ত কাছ থেকে টিটনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ৬টি গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।


রক্তাক্ত অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৮টা ২৭ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোল্লা শাহাদাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি সুপরিকল্পিত।


পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ৯০-এর দশকের শুরুতে অপরাধ জগতে পা রাখেন টিটন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অস্ত্র ব্যবসা এবং একটি শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল ওপরের দিকে।


২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন টিটন। বাবর এলাহী হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে তার মৃত্যুদণ্ডও হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।


পুলিশের একটি সূত্র ধারণা করছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা গ্যাংওয়ার-এর জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ১০ নভেম্বর পুরান ঢাকায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন হত্যার ঘটনায় টিটনের ভগ্নিপতি ইমনের নাম উঠে এসেছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা, মামুন হত্যার প্রতিশোধ বা ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করেই টিটনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীর আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন