রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়েছিল, সেটি ফেরিতে ওঠার জন্য পন্টুনে আসার আগেই যাত্রীদের নামানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে নৌপুলিশ।
বাহিনীর মিডিয়ার শাখার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নৌপুলিশের ‘সময়োচিত সতর্কতা ও দ্রুত পদক্ষেপের’ কারণে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী।
বাসের যাত্রীরাও জানিয়েছেন, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেন পুলিশ সদস্যরা। যাত্রীরা নেমে যাওয়ায় তাদের কেউ হতাহত হননি। পরবর্তীতে বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায় ‘এসবি সুপার ডিলাক্স’ পরিবহনের একটি বাস। বাসটি মেহেরপুর থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।
নৌপুলিশ বলেন, পন্টুনে নামার পূর্বেই সেখানে দায়িত্বরত দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা বাসটি থামিয়ে যাত্রীদের দ্রুত নেমে যাওয়ার নির্দেশ দেন। যাত্রীরা নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার পর, বাসের চালক ও হেলপার গাড়িটি নিয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই ঘাটে কর্তব্যরত নৌ পুলিশের সদস্যরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তাদের দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপে বাসের চালক ও হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালা উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি উদ্ধারের কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও ডুবুরিরা। পরে তারা খালি বাসটি নদী থেকে তুলে আনে।
এর আগে ২৫ মার্চ এ ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নদীতে পড়ে যায়। সে দুর্ঘটনার পর মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ডিবিসি/ এইচএপি