রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব দখল করে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠনের কার্যালয় বানানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে ওই প্রেসক্লাবের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা তালা ভেঙে নিজেদের কর্মস্থলে প্রবেশ করেন।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন গত ৫ আগস্ট গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে ৩২ জন আহত হন। পরবর্তীতে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। বর্তমানে তারা এই সংগঠনটির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব ভবনটি দখলে নিতে চাইছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের একাংশের উদ্যোগে ২০০৪ সালে ‘উপজেলা প্রেসক্লাব, গোদাগাড়ী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে একটি ভাড়া ঘরে কার্যক্রম চললেও ২০০৯ সালে ডাইংপাড়া মোড়ে সাংবাদিকরা নিজেদের উদ্যোগে এক কক্ষের একটি একতলা ভবন নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন এই প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিক আলমগীর কবির তোতা। জুলাইযোদ্ধাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। এই অভিযোগকে পুঁজি করেই মূলত বেশ কিছুদিন ধরে প্রেসক্লাবটি দখলের চেষ্টা চলছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্প্রতি আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে সভাপতি এবং কালবেলার প্রতিনিধি জামিল আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু নতুন কমিটির কার্যক্রম চলার মাঝেই মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ক্লাবে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
তালা দেওয়ার আগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’র সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সেখানে দাবি করা হয়, প্রেসক্লাবের ব্যানারে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই এর আড়ালে সব ধরনের রাজনৈতিক পুনর্বাসন কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে ক্লাবে তালা দেওয়ার ঘটনায় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম গোদাগাড়ী থানায় পাল্টা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় সাংবাদিকরা বাধ্য হয়ে নিজেরাই তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ বিষয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাইযোদ্ধা’র সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশালিন বলেন, ওই ক্লাবে আওয়ামী লীগের দোসররা থাকতো এবং ৫ আগস্টের পর থেকে এটি বন্ধই ছিল। বিষয়টি সুরাহার জন্য ইউএনও বরাবর অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, এখন তিনি যা সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই মেনে নেওয়া হবে। তবে সংগঠনের সভাপতি ও স্থানীয় পৌর যুবদলের নেতা সাবিয়ার রহমান মিল্টন জানান, আহতদের নিয়ে সংগঠন গঠনের পর থেকেই তারা প্রেসক্লাবটিকে নিজেদের অফিস হিসেবে চেয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার তালা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা প্রেসক্লাব, গোদাগাড়ীর বর্তমান সভাপতি সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কষ্টে তিলে তিলে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে সাংবাদিকতার চর্চা হয়। যাদের নিয়ে আপত্তি ছিল, তাদের বাদ দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপরও এটি দখলের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় সাংবাদিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, থানায় এবং ইউএনওর কাছে উভয় পক্ষের অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি যেহেতু উপজেলা প্রশাসন দেখভাল করছে, তাই পুলিশ সরাসরি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত বলেন, ক্লাবে তালা দেওয়া এবং তা ভেঙে সাংবাদিকদের প্রবেশের বিষয়টি তিনি অবগত। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ডিবিসি/পিআরএএন