রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় গত ১০ বছরে সংরক্ষণের নির্দেশনায় থাকা অন্তত ৮০০ পুকুর ভরাট হয়ে গেছে, তবে এবার সেই পুকুরগুলো ভরাটকারীর অর্থেই পুনঃখনন শুরু করেছে প্রশাসন। ভূমিদস্যুরা অধিক মুনাফার লোভে রাতারাতি এসব পুকুর ভরাট করে হাত বদল করলেও, শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি রাজশাহী নগরীর মোল্লাপাড়ায় ৬৩ শতকের একটি ভরাটকৃত পুকুর উদ্ধার করে মালিকের খরচে সেটি আবার খনন করার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
২০১৪ সালে নগরীর ৯৫২টি পুকুর সংরক্ষণের জন্য জনস্বার্থে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন আইনজীবী শওকত উদ্দীন রেন্টু। হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে করা এই রিটের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৮ই আগস্ট হাইকোর্ট পুকুরগুলো সংরক্ষণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। কিন্তু প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে এতদিন পুকুর ভরাট থামানো যায়নি। আইনজীবী শওকত আলী রেন্টু জানান, গত এক দশকে প্রায় ৮০০ পুকুর বাস্তবে ভরাট হয়ে গেছে। এমনকি সরকারি ৪৮টি পুকুরের মধ্যে ১৭টির অস্তিত্ব এখন আর নেই। বর্তমানে শহরে সরকারি ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে মাত্র ১৫০টি পুকুর অবশিষ্ট আছে।
ব্যতিক্রমী ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ ঘোষণা দিয়েছেন যে, সংরক্ষিত সকল পুকুর পুনঃখনন করা হবে। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাছমিনা খাতুনও অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। রিটকারী আইনজীবীর মতে, পরিবেশ ও জনস্বার্থে পুকুরগুলো কেবল পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়, এর পানি বিশুদ্ধ রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয়রা, যারা দীর্ঘদিন ধরে জলাধার ভরাটের বিরূপ প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।
ডিবিসি/পিআরএএন