ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছে মিসর। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশটিতে দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেগুলো আগেভাগে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই নিয়মের আওতায় আগামী এক মাস প্রতিদিন রাত ৯টার মধ্যে সব খুচরা দোকান ও খাবারের দোকান বন্ধ করতে হবে।
মিসর সরকারের এই "ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের" মধ্যে আরও রয়েছে—রাস্তার বাতি ও বিলবোর্ডের আলো কমিয়ে দেওয়া এবং আগামী এপ্রিলে বেশিরভাগ কর্মীর জন্য সপ্তাহে এক দিন বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) করার নিয়ম চালু করা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে কার্যকর অবরোধের কারণে মিসর বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পানিপথ দিয়ে সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। দ্রুত এর সমাধান না হলে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই যুদ্ধে মিসরের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও, আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে দেশটি ভয়াবহ সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। শনিবার মিসরের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবউলি জানান, দেশটিতে শুধু পেট্রোল বাবদ ব্যয় জানুয়ারি মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে মার্চ মাসে আড়াইশ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জরুরি সেবা ও পর্যটন খাত আওতামুক্ত সরকার জানিয়েছে, হোটেল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলো এই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে। উল্লেখ্য, মিসরের অর্থনীতির প্রায় এক-দশমাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে।
তবে কায়রোর ম্যারিয়ট ও কসমোপলিটনের মতো বেশ কয়েকটি হোটেল সম্প্রচারমাধ্যম আরএফআই-কে জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় তারা এরই মধ্যে জেনারেটর কিনেছে। বাইরে দোকানপাট বন্ধের সময়সীমা যা-ই হোক না কেন, অতিথিদের জন্য তারা নিজস্ব রেস্তোরাঁ খোলা রাখবে। অন্যদিকে, সপ্তাহে এক দিন বাসা থেকে কাজ করার নিয়মের ক্ষেত্রে হাসপাতাল, স্কুল এবং কারখানার মতো জরুরি সেবার কর্মীদের বাইরে রাখা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/কেএলডি