জেলার সংবাদ

রাবিতে ৫৫৭ দিনে ৪৭৮ জনকে নিয়োগ দিয়ে সাবেক ভিসির রমরমা বাণিজ্য!

রাজশাহী প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

সমালোচনার রেকর্ড গড়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব। জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে এই নিয়োগে বাণিজ্য, আত্মীয় ও দলীয়করনের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অবসরপ্রাপ্ত শ্বশুরকে নিয়োগ দেন ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও আছে।

জানা গেছে, উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইবার স্বর্ণপদক পাওয়া প্রার্থী ড. এ সালাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু মেধা তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পরও তার নিয়োগ হয়নি। নিয়োগ পান চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থী। এই অনিয়ম দেখে ভাইভা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাবি অধ্যাপক মোঃ ইস্রাফিল চূড়ান্ত ফলাফলে স্বাক্ষর করেননি। তারপরও গায়ের জোরে এই নিয়োগকে বৈধ করেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব।
 

 শুধু এই একটি নিয়োগ জালিয়াতি নয়, সালেহ হাসান নকীবের ৫৫৭ দিন উপাচার্য দায়িত্বপালনকালে নিয়োগ দিয়েছেন অন্তত ৪৭৮ জনকে। অতীতে এত অল্প সময় দায়িত্ব পালন করে কোন উপাচার্য এতো বড় নিয়োগ দিতে পারেননি। উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে নিজের শ্বশুর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. একেএম আজহারুল ইসলামকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সাবেক এই উপাচার্য। আইসিটি সেন্টারে প্রথম শ্রেণীর অফিসার পদে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ দুজনকে নিয়োগ দিয়েও সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়া শিক্ষক পদে অন্তত ১৫৪ জন, চিকিৎসক পদে ৬জন, কর্মকর্তা পদে ৩জন, কর্মচারী পদে ৩১৫ জনকে নিয়োগ দেন তিনি।


শিক্ষকরা বলছেন, জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে দলীয়করণের মাধ্যমে অধিকাংশ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিষেধ করেও উপাচার্য নকীবের নিয়োগ কার্যক্রম ঠেকাতে পারেননি।

 

রাবির ছাত্রনেতারা বলছেন, জুলাই চেতনাকে পুঁজি করে উপাচার্য হয়ে সালেহ হাসান নকীব নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয়করণ, আত্মীয়করণে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেননি। তবে রাকসুর জিএস নিয়োগে আত্মীয়করণে সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন উপ-উপাচার্য মাঈনউদ্দীনকে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক উপাচার্য দাবি করেন, নিয়োগে কোন অনিয়ম হয়নি। কোনো দুর্নীতি-সুপারিশকে প্রশ্রয় দেয়া হয়নি। সব অভিযোগ মিথ্যা।

রাবির বর্তমান উপাচার্য বলছেন, সাবেক উপাচার্য কম সময়ে খুব বেশি নিয়োগ দিয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রতিটি নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাইলেও হয়েছে তার উল্টো। অনেক ক্ষেত্রেই মেধার বিবেচনা হয়নি।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন