রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ঘটনায় বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়িয়ে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। শনিবার (২৮ মার্চ) বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলায় নির্বাচনি জনসভা থেকে এই ভাষাতেই বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের দোহাই দিয়ে ওরা আমার হাত থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিয়ে রঘুনাথপুরে দাঙ্গা বাধিয়েছে। ওদের লজ্জা থাকা উচিত। রঘুনাথগঞ্জে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। মিছিল থেকে বেরিয়ে মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আজ না হলেও আগামীকাল কাউকেই ছাড়া হবে না। সাধারণ মানুষই আপনাদের বিচার করবে। এদিন বেহালার অশান্তির প্রসঙ্গেও তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে 'বিভাজনের রাজনীতি'র অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মানুষের একটাই ধর্ম-মানব ধর্ম। যা মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। বিপদে মানুষের রক্তই মানুষের প্রাণ বাঁচায়। বাড়ি তৈরির সময় কেউ জাত-ধর্ম জানতে চায় না।"
বিজেপিকে 'অত্যাচারীর দল' বলে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, "ওরা হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, আদিবাসী-কারোরই আপন নয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মাছ-মাংস-ডিম খেতে দেওয়া হয় না। বাংলা ভাষায় কথা বললে সেখানে অত্যাচারিত হতে হয়। আপনারা কি চান বিজেপি আপনাদের ভোট নিয়ে সব কেড়ে নিক? তৃণমূলকে ভোট না দিলে ওরা আপনাদের খাদ্যাভ্যাস থেকে কথা বলার স্বাধীনতা-সবই কেড়ে নেবে।"
এদিনের প্রতিটি নির্বাচনি সভা থেকেই দিল্লি জয়ের ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান, "বাংলায় জয়ের পর আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে দিল্লি। সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা দিল্লি দখল করব।"
ডিবিসি/এসএফএল