রাশিয়ার আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটা ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৭ বাংলাদেশি। মস্কোয় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার এক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে আজ এ তথ্য জানা গেছে।
দূতাবাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত শ্রমিকের নাম জাকির হোসেন, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। অন্যদিকে নিখোঁজ রয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মো. আলাল হোসেন রাজু।
এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অধীন ওই গ্যাস কমপ্লেক্সের ৪ ও ১০ নম্বর প্ল্যান্টে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আজ সকালে জাকিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দূতাবাস জানিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ আলাল হোসেন রাজুর বিষয়ে দূতাবাস জানায়, হাসপাতালে রাখা বেশ কিছু মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় এখনও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ওই অজ্ঞাত মরদেহগুলোর মধ্যে নিখোঁজ এই বাংলাদেশির মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, গুরুতর আহত ৭ বাংলাদেশি শ্রমিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমুর থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরে ভ্লাদিভোস্তকের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।
নিহত জাকিরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছে এবং মিশন ইতোমধ্যেই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও নথিপত্র প্রস্তুত করেছে। এছাড়া, জাকিরের বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে এলএনজি সিনোপেক ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিবিসি/এসভিএন