ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে এবং দেশটির অর্থের উৎস বন্ধ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নজিরবিহীন ও কঠোর নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল সেনেটের প্রথম ধাপে পাশ হয়েছে। ‘লিন্ডসে ও. গ্র্যাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ নামক এই বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর বিশেষ করে ভারত ও চীনের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মার্কিন শুল্ক আরোপ করার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন সেনেটে বিলটি ৮৬-১২ ভোটের বড় ব্যবধানে অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রয়াত ইউক্রেন-সমর্থক সেনেটর লিন্ডসে গ্র্যাহামের স্মরণে তৈরি এই খসড়া আইনের ভোটাভুটি প্রত্যক্ষ করতে মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি এই পদক্ষেপকে শান্তির পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত এই বিলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে যেসব দেশ রাশিয়ার তেল, শক্তি সম্পদ বা সামরিক সরঞ্জাম কেনা অব্যাহত রাখবে কিংবা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা করবে, তাদের ওপর শতভাগ পর্যন্ত মার্কিন রপ্তানি শুল্ক বসানো সম্ভব হবে।
এছাড়া রাশিয়া থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আসা আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো এবং আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়াতে ব্যবহৃত রাশিয়ার গোপন তেল ট্যাঙ্কার নৌবহরকে ধসে দেওয়ার বিধানও বিলে রাখা হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ রুশ সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের সাথে যুক্ত ২০ জনেরও বেশি শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও এতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সেন্টার ফর রিসার্স অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, চীন ও তুরস্কের মতো ভারতও রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটায় নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারতকে রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে এই বিল আইনে পরিণত হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে, যার ফলে শুল্কের হাত থেকে বাঁচতে ভারতকে আবারো মার্কিন ছাড়ের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ইউএস চেম্বার অফ কমার্স এবং বেশ কিছু সেনেটর এই অতিরিক্ত শুল্কের বিরোধিতা করছেন কারণ এতে মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে। আপাতত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক বিলে ইরান সংক্রান্ত নতুন সংশোধনী যুক্ত করার নির্দেশের কারণে এর চূড়ান্ত অনুমোদনে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এমএনকে