সীমান্ত থেকে শত শত মাইল দূরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের এই দূরপাল্লার হামলা অভিযান রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থিত কৌশলগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ক্রমবর্ধমান বিস্তৃতিরই প্রমাণ বহন করে।
রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিজনেকামস্ক শহরে অবস্থিত এবং টাটনেফটের মালিকানাধীন ‘টানেকো’ তেল শোধনাগারে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৭৫০ মাইল বা ১,২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তাতারস্তানের প্রধান রুস্তাম মিন্নিখানভ জানান, একটি ড্রোন হোস্টেলে আঘাত হানলে সেখানে নয়জন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে সাতজন উজবেক নাগরিক ছিলেন বলে উজবেক দূতাবাস টেলিগ্রামে নিশ্চিত করেছে। এই প্রাণঘাতী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাতারস্তানে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং রুশ প্রসিকিউটররা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রুশ আগ্রাসনকারীর সামরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং দেশটির অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধ করার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মস্কো যেন তাদের যুদ্ধের জন্য আর পর্যাপ্ত অর্থায়ন করতে না পারে, সেটাই কিয়েভের মূল লক্ষ্য। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই দূরপাল্লার বোমা হামলাকে “সম্পূর্ণ ন্যায্য” বলে অভিহিত করে বলেছেন, রাশিয়ার হামলার উপযুক্ত জবাব তাদের নিজেদের ঘরেই অনুভূত হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোনগুলো রাশিয়ার তেল রপ্তানি শিল্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। এর অংশ হিসেবে সাইবেরিয়া ও তিউমেন অঞ্চলের শিল্প স্থাপনা, ওয়াইল্ডবেরিজের গুদাম এবং আজভ ও কৃষ্ণ সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশটির আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বিপুলসংখ্যক ড্রোন আটকের দাবি করেছে এবং একই সাথে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এমএনকে