বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছ থেকে পরিশোধিত ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছে বাংলাদেশ। এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানি দপ্তরে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে বৈঠকে মার্কিন সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্র জানায়, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল তৃতীয় কোনো দেশে পরিশোধিত হওয়ার পর তা আমদানির বিকল্প সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা।
এর আগে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে বৈশ্বিক ছাড় দিলেও তখন বাংলাদেশের উদ্দেশে কোনো রুশ তেলের ট্যাংকার না থাকায় সেই সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীকে জানান খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে ক্রিস রাইট জানান, এমন কঠিন সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
পাশাপাশি বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানিপণ্য আমদানির সম্ভাবনা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত মতবিনিময় করেছে।
ডিবিসি/এফএইচআর