রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ অনলাইনে প্রকাশিত এক চিঠিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে একটি বিশেষ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। নতুন এই লাইসেন্সটি মূলত ১২ মার্চের মধ্যে জাহাজে বোঝাই করা তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জেরে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে রাশিয়ার ওপর এই তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই কঠোর অবস্থান থেকে সাময়িক সরে এলো দেশটি। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠীর সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত ইরান পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এই ত্বরিত উদ্যোগ নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঠিক এক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত রিজার্ভ থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সরকারি রিজার্ভ থেকে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪০ কোটি ব্যারেল তেল অবমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর